--হটাৎ এই দেখি,রাত তিনটার দিকে আমি আর নিশ্বাস নিতে পারছি না!আমার দম আটকে আসছে!হাত,পা বিছানায় ছুটাছুটি করছি!কোনো রকমে চোখ মেলে তাকালাম।তাকিয়ে দেখি সাজিয়া আমার মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ধরেছে!এটা দেখে চোখ জোড়া সোজা কপালে উঠে গেলো!মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা নড়ছি।হয়তো আর দুই এক মিনিটেই আমি দম ছেড়ে দিব।আচমকা একটা শক্তি চলে আসলো গায়ে।মৃত্যুর আগে মানুষ বাঁচার জন্য নিজের শরীরের সমস্ত শক্তি খাটায়।যাতে করে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে পারে।আমিও তেমনটাই করলাম।ধাক্কা দিয়ে সাজিয়াকে গায়ের উপর থেকে বিছানায় ফেলে দিলাম।বালিশ গিয়ে পড়লো ফ্লোরের উপরে।আরে সাজিয়া কি করছো কি তুমি?
--এই,চুপ একদম তুই!একটাও কথা বলবি না।তোকে আজ আমি জমের বাড়ি পাঠিয়ে দিব।
আবার আকাশের গায়ের উপরে উঠে পড়ে।
--সাজিয়া প্লিজ আমায় ছেড়ে দাও।আমি কি করেছি,সেটা তো বলবে?
--তুই অনেক কিছুই করেছিস আমার সাথে।তুই আমাকে রেখে ফাহমিদাকে বিয়ে করার কথা ভাবলি কি করে?তুই কি মনে করেছিস,আমি তোকে এত সহজে ছেড়ে দিব?
--তোমার কারনেই আমি তোমাকে ছাড়তে চেয়েছি।
তোমার অসৎ আচরণের জন্য তোমায় ডিভোর্স দিতে চেয়েছি।
--এই চুপ জানোয়ার!আমি কোনো ধসৎ আচরণ করিনি।তুই আমাকে খালি খালি দোষারোপ করেছিস।
তবে এবার তোর সাথে অসৎ আচরণ এই করবো আমি।দেখি তোর কত ক্ষমতা,তুই আমাকে আটকা।
বুক থেকে শাড়ির আঁচলটা ফেলে দেয়।
--সাজিয়া কি করছো কি তুমি?
--এই আকাশ তোকে চুপ থাকতে বলেছি।
একটাও কথা বলবি না তুই।আজ রাগের সীমা অতিক্রম হয়ে গেছে।এটাকে আর দমিয়ে রাখা সম্ভব না।কি নেই আমার মধ্যে হা?যে তুই আমায় রেখে ফাহমিদাকে বিয়ে করতে চাইছিস।তাকিয়ে দেখতো আমার শরীরের দিকে,যে ফাহমিদার থেকে শরীরের কোনে একটা অংশ কি কম আছে নাকি?ওর থেকে কোনো অংশেও তো কম নেই।তাও কেনো তুই আমাকে ছাড়বি বললি?
--সাজিয়া প্লিজ আমায় ছাড়ো!
--না বললাম না।তোর আজ মুক্তি নেই।
আমার শরীর তোর নিজের করতে হবে।শরীরটা তো তোর এই।নে নিজের করে নে শরীরটাকে।
--না আমি পারবো না।তোমার উপরে আমার ঘৃণা জন্মে গেছে।তোমার সেই ঘৃণিত শরীর চাই না আমার।
--তোর না চাইলেও আমার চাই।তুই ভালোয় ভালোয় নিজের করে নিবি।না হয় আমি জোর করে তোকে নিজের করবো।ভেবে দেখ,যে তুই কোনটা করবি!তবে মাথায় রাখিস,আমি যদি তোর শরীর জোর করে নিজের করি,তাহলে কিন্তু পুরুষজাতি কলঙ্কিত হয়ে যাবে।যে পুরুষ মেয়ের হাতে ধর্ষিত হয়েছে।সো তাড়াতাড়ি কি করবি কর।
সাজিয়া গা থেকে সমস্ত কাপড় খুলে ছুড়ে ফেলে দেয়!
--কি করবো ভেবে পাচ্ছি না!সাজিয়ার মাথা খারাপ হয়ে গেছে!কি সব করছে উল্টা-পাল্টা!
--কিরে কি হয়েছে?কাছে টান আমায়!শরীরটা নিজের করে নে।এই শরীর এখন তোর।যা ইচ্ছা হয় কর।আমি কিছুই বলবো না।তবে মাথায় রাখসি,তোর জীবনে আমি বাদে কেউ আসতে পারবে না।আর যদি আসে,তাহলে নিজের কপালেই কুড়াল মারবি তুই।তোকে আমি কিছুই বলবো না।তবে আমি যেটা করবো,সেটা তুই মেনে নিতে পারবি না তখন!নে অনেক কিছুই বললাম।এবার কাছে টান আমায়।
--অনিচ্ছাসত্বে সাজিয়াকে কাছে টানলাম।তবে মন থেকে সে উঠে গেছে।আজকের আচরণের পর তো একদম মন থেকে বের এই হয়ে গেছে।কেমন হিংস্র আচরণ করলো সে আমার সাথে!মনে হচ্ছে যেনো পুরুষের স্পর্শ না পেলে সে এখনি দম ফেটে মারা যাবে।
এটা কি আমার প্রতি তার ভালোবাসা,নাকি শরীরের চাহিদা মেটানোর জন্য এমন করছে সে আমার সাথে।কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না!তবে এটুকু বলবো,সাজিয়া অন্য পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছে।এই শরীর আমি আর গোছে নিব না।
একটু পর...
সাজিয়াকে ছেড়ে দিয়ে উঠে পাড়লাম।
তবে ওকে যখন নিজের কাছে টেনেছি,তখন একটা জিনিস অনুভব করলাম।যেটার সাথে আমার প্রশ্নের কোনো মিল এই পেলাম না আমি।সাজিয়া যেনো সব সময় এই আমার ছিলো।ওর শরীরটা যেনো আর কোনো পুরুষ কখনো স্পর্শ করেনি।তাহলে আমি তিনদিন যেই মানুষটাকে দেখলাম,সেটা কে!
আর সাজিয়ার শরীরে অপরিচিত স্মেইল টা কোথা থেকে এসেছিলো!হাজারটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরা খাচ্ছে!
ধ্যাঁত যা হবে হোক,আগে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসি।
ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।
ফ্রেয় হয়ে এসে দেখি সাজিয়া কাপড় হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।হয়তো সেও ফ্রেশ হবে।ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানায় শুয়ে পড়লাম।একটু পর সেও ফ্রেশ হয়ে এসে আমার পাশে শুয়ে পড়লো।সাজিয়া তুমি অন্যরুমে গিয়ে ঘুমাও।
--না আমি এখানেই ঘুমাবো।
--ওকেহ,যা ভালো লাগে করো।আমি আমার মতন করে অন্যপাশ হয়ে শুয়ে আছি।হটাৎ এই সে আমায় জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে শুরু করলো।সাজিয়া,আবার কি শুরু করেছো এই সব?একটু আগে না আমায় নিজের করে পেয়েছিলে?
--হা,তো?নিজের করে পেয়েছি বলে কি আর চুমু খেতে পারবো না?
--তোমায় আর কিছু বলার নেই।এত পেঁচালো মেয়ে তুমি,যে তোমায় কিছু বলেই শান্তি পাওয়া যায় না।
--পেঁচালো বলেই তোমাকে নিজের করে পেয়েছি।এখন চুপচাপ ঘুমাও।
--আর কোনো কথা বললাম না।চুপচাপ শুয়ে আছি।
সাজিয়া আমার চুলের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিয়ে আলতো করে চুল গুলো টেনে দিচ্ছে।আবার মাঝে মাঝে ঘাড়ে চুমুও খাচ্ছে।মেয়েরটার আচরণ দেখে একের পর এক অবাক এই হচ্ছি খালি!সে আমায় এমন ভাবে জড়িয়ে ধরেছে,যে ওর শরীর থেকে আমার শরীরের তফাৎ দুই সুতো পরিমান ও হবে না।বেখেয়ালে আমিও ওকে জড়িয়ে ধরলাম।কখন যে ঘুমিয়ে গেছি,তা নিজেও জানি না।
সকাল বেলায়..
ঘুম থেকে উঠে দেখি সাজিয়া আমায় নাস্তা করার জন্য ডাকছে।ওকে দেখেই রাতের ঘটনাটা মনে পড়ে গেলো।
নিজের উপরেই ঘৃণা হচ্ছে এখন!একটা মেয়ে রাতে আমার উপরে জোর খাটালো,আর আমি সেটা থেকে নিজেকে সেইভ করতে পারলাম না।কাপুরুষ প্রমাণ করলাম নিজেকে।
--এই কি ভাবছো এতো?
যাও উঠে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও।আমি নাস্তা লাগিয়েছি টেবিলে।
--সাজিয়া দেখো তুমি জোর করে রাতে আমায় কাছে টেনেছো।তবে সত্যিকারত্বে তোমাকে আমি আর চাইনা।
আমি ফাহমিদাকেই বিয়ে করবো।কারন তোমার শরীরে অন্যকেউ স্পর্শ করেছে।আর বিয়ের পর যেই মেয়ের শরীরে বর বাদে অন্য কেউ হাত দেয়,সেই মেয়ে কখনো কাউকে ভালোবাসতে পারে না।সে মেয়ে কখনো কাউকে ভালোবেসে নিজের কাছে রাখতে পারে না।
সো তোমার আর কোনো প্রযোজন নেই আমার।
--আকাশ,অনেক অপবাদ দিচ্ছো আমায়।
আমি কিন্তু সেরকম কিছুই করিনি।তবে তার পরেও যদি সেই পাপের শাস্তি তুমি আমায় দাও,তাহলে তোমারো কিছু শাস্তি প্রাপ্য রয়েছে।যেটা তুমি সময় মতন পেয়ে যাবে।আর বেশি কিছু বলবো না তোমায়।যাও উঠে গিয়ে নাস্তা করে নাও।
--আর কোনো কথা বললাম না সাজিয়াকে।
কিই বা বলবো,যেই মেয়ে স্বামীর উপস্থিতিতে অন্য লোককে ঘরে আনে,সেই মেয়ের সাথে কিসের সংসার করবো আমি।আর তার হাজারো কথাতেও আমার মন গলবে না।করন ওর অশ্লীলতার সাক্ষী আমার স্বয়ং দুই চোখ।
নাস্তা করে অফিসে চলে এলাম।ফাহমিদা কেবিনে এসে বসে আছে।অবস্য সে এসে বসে নেই।আমিই তাকে কেবিনে এনে বসিয়ে রেখেছি।কারন তাকে নিয়ে ভবিষ্যতের প্লাহ করছি।কিন্তু মাথাটা জ্যাম হয়ে আছে!
একদিকে ফাহমিদা,অন্যদিকে সাজিয়া আর সেই বস্ত্রহীন লোকটা।যে কিনা সাজিয়ার শরীরে পাড়ি জমিয়েছে।আবার রাতের বিষয়টাও নজর আন্দাজ করতে পারছি না।কারন সাজিয়াকে নিজের করার সময় ওর শরীরে আমি কোনো অপরিচিত লোকের চিহ্ন পাইনি।আরো কিছু সিম্পটম লক্ষ্য করেছি আমি।সব কিছুই যেনো পরিষ্কার ছিলো।তবে আমার দুচোখ তো অন্যকিছু দেখেছে।সেটা কি মিথ্যা!না আমার চোখ আমাকে ধোকা দিচ্ছে!ওফফফফ পাগল হয়ে যাবো আমি!
--স্যার আপনাকে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছে!কিছু হয়েছে কি?
--হা,একটু চিন্তিত!আর তুমি ছাড়ো এসব কথা।চলো কফি খেয়ে আসি।
--আচ্ছা চলেন।
--ফাহমিদাকে নিয়ে কফি খেতে আসলাম।
এভাবেই কোনো রকমে দিনটা কাটলো।রাতের বেলায় বাসায় চলে আসলাম।এসে দেখি পুরো বাসা অন্ধকার।আর সাজিয়া কোথাও নেই।সারা বাড়ি খোঁজ করলাম,কিন্তু সাজিয়াকে দেখতে পেলাম না।দৌড়ে ছাদে চলে গেলাম।সেখানে গিয়ে যা দেখলাম,তাতে তো হুঁশ এই উড়ে গেলো!সাজিয়া দাঁড়িয়ে আছে।আর তার পাশে....
চলবে..?
এক ধোঁয়াশা মানব সকল পর্বের লিংক নিচে 👇

0 মন্তব্যসমূহ